সর্বশেষ:

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা-২০১৮-এর দ্বিতীয় উম্মে শেফা আইরিনের সাক্ষাৎকার

‘যাদের অনেক ধৈর্য আছে তারাই মেডিকেলে ভর্তি হতে এসো’

গত বছর মেডিকেল ভর্তি (এমবিবিএস প্রথম বর্ষ) পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন উম্মে শেফা আইরিন। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় তার টেস্ট স্কোর ছিল ৮৫.৭৫। তিনি চট্টগ্রাম গভর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন এ মেধাবী শিক্ষার্থী। এ বছর যারা মেডিকেলে ভর্তি হতে ইচ্ছুক তাদের জন্য বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে অধ্যয়নরত উম্মে শেফা আইরিন।

মেডিভয়েসের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছেন তার মেডিকেল ভর্তিপ্রস্তুতির নানা বিষয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুন্নাফ রশিদ।

মেডিভয়েস: মেডিকেলের জন্য আপনার প্রস্তুতি কেমন ছিল?

উম্মে শেফা আইরিন: আমি এইচএসসির পরীক্ষার পর আমি মেডিকেল কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। কোচিংয়ে নিয়মিত যে পড়াগুলো দেওয়া হতো আমি সেগুলো প্রতিদিনেরটা প্রতিদিন সম্পন্ন করার চেষ্টা করতাম।  এমনও হতো যে, যেগুলো শেষ করতে পারছি না। সেগুলো ছুটির দিনে শেষ করার জন্য রেখে দিতাম। কোচিংয়ে প্রতিদিন ২-৩টা করে চ্যাপ্টার পড়াতো।  ওই চ্যাপ্টারগুলোর বইটা ভালোভাবে পড়তাম। প্রধানত আমি মূল বই বেশি করে পড়তাম। তারপর মেডিকেল সহায়ক বই বা কোচিং থেকে যে বইগুলো দিতো সেগুলো শেষ করতাম। এরপর আমি প্রশ্নগুলো সমাধান করতাম অর্থাৎ আগের বছরগুলোর প্রশ্ন শেষ করতাম।  এর পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান (জিকে) আর ইংলিশটা রেগুলার পড়ার চেষ্টা করতাম। 

এখন যেহেতু মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা একদম ঘনিয়ে আসছে। ফলে এই সময়টাতে সবগুলো সাবজেক্ট এক সাথে পড়া লাগে। যদিও প্রতিদিন সব সাবজেক্ট শেষ করা সম্ভব না। তাই আমি দুই দিনে সব সাবজেক্ট একবার করে শেষ করতাম। এর জন্য নির্দিষ্ট একটি রুটিন তৈরি করেছিলাম।  রুটিনটা এমন ছিল যেন সব সাবজেক্টেগুলো দুই দিন পরপর শেষ করতে পারি। আর জিকে ও ইংলিশের জন্য আমি শেষের দিকে এসে একটু বেশি জোর দিয়েছিলাম। 

এছাড়া এতোদিন যে পরীক্ষাগুলো দিয়েছি তার প্রশ্নগুলো আমি নিজে এক মাসে সমাধান করেছি। এর পাশাপাশি রয়েল গাইডের সবগুলো প্রশ্নপত্র আমি সমাধান করেছি। আর বইগুলো ৩-৪ বার করে রিভাইস দেয়া হয়েছিল।

মেডিভয়েস: মেডিকেল পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোন সাবজেক্টগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া দরকার?

উম্মে শেফা আইরিন: যেহেতু নাম্বার ডিস্ট্রিবিউশনের ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞান থেকে বেশি নাম্বার আসে, সেহেতু জীববিজ্ঞানকে বেশি প্রধান্য দেওয়া উচিত। কেননা শিক্ষার্থীরা পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন মোটামুটি পারে। তবে জিকে (সাধারণ জ্ঞান) আর ইংলিশে সবারই সমস্যা হয়। সাধারণত শিক্ষকরা বলে থাকেন যে, সবগুলো সাবজেক্টের নাম্বার দিয়ে আমি মেডিকেলে চান্স পাবো। আর ইংলিশ ও জিকের নাম্বার দিয়ে আমি ভালো মেডিকেলে চান্স পাবো। 

আমিও সেটাই বলতে চাই যে, এখন শেষ সময়ে এসে সবগুলো সাবজেক্টকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তবে এর সাথে ইংলিশ ও জিকের প্রতি বেশি জোর দেওয়া উচিত। আর জীববিজ্ঞানকে তো অবশ্যই প্রথম থেকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। 

মেডিভয়েস: এখন যারা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের জন্য কিছু বলুন। কিভাবে প্রস্তুতি নিলে তাদের জন্য ভালো  হবে বলে আপনি মনে করেন?

উম্মে শেফা আইরিন: এখন তো সামনে বেশি সময় নেই। মাত্র এক মাস সময় আছে। অনেকে আছে যারা আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখে। আবার এমন অনেকেই আছে যারা এই এক মাস পড়ার জন্য রেখে দেয়। তবে এটার জন্য সবার একটি নিজস্ব রুটিন করে নেয়া উচিত। এমনও আছে যে, কেউ অনেক কম ঘুমায়, আবার অনেকে বেশি ঘুমায়। এই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা এমন অনিয়ম হলে অসুস্থ হওয়ার আশংকা থাকতে পারে। 

এই সময়ে বইগুলো ভালোভাবে পড়বো। বইয়ের যে লাইনগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। এর পাশাপাশি বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন ও মেডিকেল সহায়ক বইয়ের প্রশ্নগুলো সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। আর ইংলিশ ও জিকে প্রতিদিন পড়তে হবে, বাদ দেয়া যাবে না। পাশাপাশি পদার্থ বিজ্ঞানের অঙ্কগুলো সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। 

মেডিভয়েস: বর্তমানে যারা উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছে তাদের মধ্যে অনেকেই মেডিকেলে আসতে চায়।  তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলেন।

উম্মে শেফা আইরিন: মেডিকেল এমন একটি প্রফেশন যার মাধ্যমে মনুষের খুব কাছে কাছে যাওয়া যায়। যারা মেডিকেলে পড়তে চাও তাদের জন্য একটাই কথা এখন থেকেই ভালো করে পড়ালেখা শুরু করো। বিশেষ করে মূল বই ভালোভাবে পড়ো। আমাদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, এইচএসসির পরে এসে এই সময়টাতে অনেক কম সময়ে বেশি পড়ালেখা করতে হয়। যার ফলে অনেকেই মূল বই বাদ দিয়ে কোচিংয়ের শিট বা গাইড বই পড়তে চায়। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে মেডিকেল পরীক্ষার ক্ষেত্রে মূল বইয়ের বিকল্প নেই। 

এইচএসসির দুই বছর যদি মূল বই বেশি পড়া হয় তাহলে মেডিকেল প্রস্তুতির সময় ওই বইগুলো সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা থাকবে। ফলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হবে। এক্ষেত্রে অনকেই মনে করে বই থেকে কিছু আসে না গাইড পড়লেই হয়ে যাবে। এমটা মনে করার কোনও কারণ নেই। কেননা ইংলিশ আর জিকে ছাড়া সবগুলো প্রশ্নই বই থেকে আসে। এইচএসসির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মূল বই ভালোভাবে পড়তে হবে। 

এইচএসসি পরীক্ষার জন্য টেস্ট পেপারসগুলো সমাধান করবা। এরপর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোচিংয়ে ভর্তি হতে হবে। তবে অনেকেই হয় না। যারা হবে তারা তো কোচিংয়ের শিটগুলো পড়বা আর চাইলে রয়েল গাইডটা ফলো করতে পারো। 

মেডিভয়েস: আপনি ভাবিষ্যতে মেডিকেলের কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে চান?

উম্মে শেফা আইরিন: এখন মূল টার্গেট ভালোভাবে পড়ালেখা করে এমবিবিএস সম্পন্ন করা। তারপর ইন্টার্ন শেষ করে কার্ডিওলোজিস্ট বা সার্জন হওয়ার ইচ্ছা আছে। এই প্রফেশনটা অনেক টাফ, কষ্টের। অনেক কিছুই মেইনটেইন করতে হয়। সুতরাং আমি বলবো যাদের অনেক বেশি ধৈর্য আছে তারাই শুধু আসো। যাদের ধৈর্য নাই বা পারবা না তাদের এই প্রফেশনে আসার দরকার নেই। অন্যদিকে ক্যরিয়ার গড়ার চেষ্ট করো। কেনানা মেডিকেল প্রফেশনটা একটি চলমান প্রক্রিয়া যেখানে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত পড়া লেখা করতে হবে। এতটা ধৈর্য রাখা অনেকের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। যদি তুমি এতটুকু ডেডিকেটেড হও, তবে তুমি আসো।


সংবাদটি শেয়ার করুন:


উম্মে শেফা আইরিন  মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা  চট্টগ্রাম কলেজ  ঢাকা মেডিকেল  ঢামেক






























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

প্রধান উপদেষ্টা: অধ্যাপক ডা. মো. তাহির, সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ০১৮৬৭৮৪৪৪৫৩  ই-মেইল: [email protected]
মোবাইল: ০১৮৬৭৮৪৪৪৫১