সর্বশেষ:

ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।

স্থুলতা: উচ্চতা অনুযায়ী ওজন কত হবে?

মাত্র একুশ বছরের টগবগে তরুণ ফাহিম। বয়সের তুলনায় একটু বেশিই তরুণ। মায়ের আঁচলের নিচে বেড়ে উঠায় অনেক বাস্তবতাই তার চিন্তাশক্তির বাইরে। স্কুল, কলেজ শেষ করেছে বাসায় থেকেই। কলেজ আর বাসা এভাবেই কেটেছে তার শৈশব আর কৈশোরের দূরন্ত দিনগুলি। মা-বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ায় খেলার মাঠে যাওয়াও তার জন্য ছিল কঠিনভাবে সুপারভাইজড। কালে-ভদ্রে মাঠে গেলেও মা দাঁড়িয়ে থাকতেন মাঠের বাইরে।

বেশিরভাগ সময়ই ঘরে কাটাতো। হয় বই পড়ে, নয় ভিডিও গেমস খেলে। পড়াশানায় বরাবরই ভালো। রাত তিনটা / চারটা পর্যন্ত পড়ালেখা করে। বাবা-মায়ের একান্ত ইচ্ছা ইন্জিনিয়ার হতে হবে। জীবন সাজানোর জন্য কয়টা বছর কষ্ট করবে এই আরকি।

গতবছর ভর্তি হলো বুয়েটে। একটা বছর হোষ্টেলে থেকেই হাঁপিয়ে উঠেছে। দু'দিন পরপরই বাসায় চলে আসে। আজ মাথা ব্যথা তো কাল ঘুম হয়না, খাবারে রুচি নাই অনেকদিন।

আমার চেম্বারে ঢুকতেই আমি তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। বিশাল পুতুপুতু দেহ, কচি, নিশ্পাপ মুখাবয়ব, আস্তে, মোলায়েম স্বরে কথা বলে। প্রথমেই দাঁড় করালাম ওয়েটস্কেলের উপর, ওজন ৯৫ কেজি। প্রেশার মেপে চক্ষু চড়কগাছ, ২২০/১২০। হার্ট, ফুসফুস ও অন্যান্য অঙ্গ -প্রত্যঙ্গ সাধারণ পরীক্ষায় ভালোই মনে হলো। হবু ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে ওজনের ব্যপারে লম্বা চওড়া লেকচার দিলাম।

১. উচ্চতা অনুযায়ী ওজন ঠিক করতে হবে।

২. আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি হলো BMI পরিমাপ করা।

৩. BMI হলো আপনার ওজন (কেজিতে) / উচ্চতা (মিটার) স্কয়ার।

৪. BMI < ১৮.৫ আন্ডার ওয়েট, ১৮.৫-২৫ নরমাল, >২৫ ওভার ওয়েট, > ৩০ ওবেস।

আরেকটা সহজ মাপ হলো কোমড়ের মাপ - পুরুষের থাকতে হবে ৯৪ সেমি এর নিচে এবং নারীর থাকতে হবে ৮০ সেমির নিচে। পুরুষের ১০২ সেমি ও নারীর ৮৮ সেমি এর উপরে হলে সিরিয়াসলি ট্রিট করতে হবে।

তারপর প্রেশারের ওষুধ লিখে ও কিছু রুটিন পরীক্ষা দিয়ে বিদায় দিলাম।

পরদিন রিপোর্ট নিয়ে আসলো। হরমোনাল কিছু পেলাম না। তবে তার ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল পেলাম ২৬। কতক্ষণ নির্বাক তাকিয়ে থাকলাম। একটা ক্ষুদ্র জীবন সাজাতে যদি এতটুকু মূল্য দিতে হয় তবে এ জীবন দিয়ে কি করবো!

একটা ঘটনা মনে পড়লো -

আগে একটা কোম্পানির সরিষার তেল কিনতাম, কারণ প্রথমত: একটা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি, তাছাড়া চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন "জীবন বাঁচাতে, জীবন সাঁজাতে"।

তো একদিন একটা চামচে একটু তেল নিয়ে চুলার আগুনে গরম করলাম। ক্যামিকেলসের ঘ্রান সমৃদ্ধ প্রবল ধূয়া উঠলো কতক্ষণ তারপর নিচে পড়ে থাকলো কিছু টলটলে পানি। তারমানে এই চোখ ভিজিয়ে দেয়া ঝাঁঝালো তেলটার পুরোটাই ছিল ক্যামিকেলসের মেকি কারসাজি!

সেই তেলের মতোই জীবনকে বায়বীয় সাজানোয় ব্যস্ত সবাই। ছারখার হয়ে যাওয়া জীবনের নির্যাস, সযত্নে ঢেকে রাখি চকমকে মখমলে। কৃত্রিম হাসিতে লুকাই কষ্টের বলিরেখা। আহা জীবন!


সংবাদটি শেয়ার করুন:































জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

প্রধান উপদেষ্টা: অধ্যাপক ডা. মো. তাহির, সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ০১৮৬৭৮৪৪৪৫৩  ই-মেইল: [email protected]
মোবাইল: ০১৮৬৭৮৪৪৪৫১