সর্বশেষ:

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন: সম্ভাব্য তারিখ ১১ অক্টোবর

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে আগামী ৪ অক্টোবরের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (এমবিবিএস প্রথম বর্ষ) সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। এক সপ্তাহ পিছিয়ে পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ অক্টোবর। এছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র ও হলরুম প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি সাপেক্ষে দিনক্ষণ পরিবর্তন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৪ অক্টোবরের আগে-পরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা পালিত হবে। এ কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ওইদিনের অনুষ্ঠিতব্য এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়। আর ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ৪ অক্টোবরের পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কোনো ধরনের জটিলতা না থাকলে ১১ অক্টোবর পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

পরীক্ষায় সবার জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র:

এবারের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় সব পরীক্ষার্থীর জন্য আলাদা সেটের প্রশ্ন প্রণয়ন করা হবে। কম্পিউটারে বিশেষ ধরনের সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। তাই এবারের প্রশ্ন প্রেসে ছাপা হবে না। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও প্রিন্ট দেয়ার সময় দায়িত্বশীল কয়েকজন ছাড়া বাইরের কোনো লোক থাকবে না। প্রশ্নফাঁস এড়াতে এবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলে জাগো নিউজের খবরে বলা হয়েছে। ডেন্টাল, মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির ভর্তি পরীক্ষায়ও এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রশ্নপত্র প্রেসে ছাপানোর বদলে প্রথমবারের মতো কম্পিউটারের বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরি ও প্রিন্ট দেয়া হবে। এরই মধ্যে ডেন্টাল, মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) ভর্তি পরীক্ষায় এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে সফলতা এসেছে। গত বছর এমবিবিএস পরীক্ষা এ পদ্ধতিতে নেওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রেসেই প্রশ্নপত্র ছাপা হয়।

সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রেসে প্রশ্নপত্র ছাপা হলে বাইরের কমপক্ষে ১০-১৫ জন লোক ছাপা, বাঁধাই ও সেলাইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা সত্ত্বেও তাদের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। এ সব কারণেই তারা প্রেসের বদলে কম্পিউটার সফটওয়্যারে প্রশ্নপত্র ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র ছাপার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আগে প্রতি বছর চার সেট প্রশ্ন প্রণয়ন করা হতো। চার সেট প্রশ্ন ভিন্ন হলেও যেকোনো একটি সেটের প্রশ্ন ও উত্তর একই হতো। কিন্তু এ বছর প্রতিটি পরীক্ষার্থীর জন্য এক সেট প্রশ্ন ছাপা হবে। ১০০টি প্রশ্ন একই থাকলেও এক পরীক্ষার্থীর এক নম্বর প্রশ্ন অন্য পরীক্ষার্থীর ৯৯ নম্বরে থাকতে পারে। বিশেষ ধরনের সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশ্ন প্রণয়ন হবে।

প্রসঙ্গত, পূর্বঘোষিত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষা সামনে রেখে গত ২৭ আগস্ট থেকে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনপত্র গ্রহণ শুরু হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আবেদনপত্র গ্রহণ। ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে পদার্থবিদ্যায় ২০, রসায়নে ২৫, জীববিজ্ঞানে ৩০, ইংরেজিতে ১৫ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাধারণ জ্ঞানে ১০ নম্বর থাকবে।

মেডিকেল কোচিং সেন্টার বন্ধ:

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের জন্য এক সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে সব ধরনের মেডিকেল কোচিং সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ালে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

প্রেসে প্রশ্ন ছাপার বদলে কম্পিউটারে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র প্রণীত হবে কিনা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রেসে প্রশ্ন না ছাপানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দেখা গেছে, অধিকতর স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষা করে অল্প সময়ে প্রশ্নপত্র ছাপা যাবে। প্রশ্নপত্রও হবে ভিন্ন ভিন্ন। বড় কোনো জটিলতা দেখা না দিলে এবার এমবিবিএসের প্রশ্ন প্রেসে ছাপা হবে না।


সংবাদটি শেয়ার করুন:


মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা  এমবিবিএস  স্বাস্থ্য অধিদফতর  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়






























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

প্রধান উপদেষ্টা: অধ্যাপক ডা. মো. তাহির, সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ০১৮৬৭৮৪৪৪৫৩  ই-মেইল: [email protected]
মোবাইল: ০১৮৬৭৮৪৪৪৫১