সর্বশেষ:

ডা. বাপ্পা আজিজুল

রেসিডেন্ট, সাইক্রিয়াট্রি বিভাগ

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ

সাইকিয়াট্রিতে ক্যারিয়ার করতে চাইলে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্বাস্থ্যের সংজ্ঞায় মানুষের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতার শর্তারোপ করেছে। প্রত্যেকটি শারীরিক রোগের সাথে মনের একটি সম্পর্ক আছে। মানুষের মন বিচিত্র। তার আছে আবেগ-অনুভূতি, চিন্তা, বুদ্ধিমত্তা, স্মৃতি, ভাল-মন্দ বিচারিক ক্ষমতা আরও কত কী! মন ভালো তো শরীর ভালো, জগৎ ভালো।

আমরা শরীরের যত্ন নিই কিন্তু মন ততটাই অবহেলিত।  বাংলাদেশে ১৮ বছরের উর্ধ্বে জনগণের মধ্যে মানসিক রোগের হার ১৬.০৮%, ১৮ বছরে নিচে অর্থাৎ শিশুদের মধ্যে হার ১৭.৮% । এছাড়া মাদকাসক্তির হার ১০%। প্রতি হাজারে আত্মহত্যা করছে ২৮ জন।

এছাড়া ডিপ্রেশন, পারিবারিক ঝামেলা এগুলো না হয় নাই বললাম। এরকম ভয়াবহ যখন পরিসংখ্যান তখন এদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো এখনও শৈশব পার করেনি। সারাদেশে সর্বসাকুল্যে মনোচিকিৎসক ২৮০ জন (২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত ছিল ২৬০ জন। নতুন পাশ করা সহ ধরলাম)।  ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট ৫০ জন। এক লক্ষ জনের বিপরীতে সরকারি হাসপাতালে সিট বরাদ্দ আছে ০.৫ টি। গতবছর একটি টিভি রিপোর্ট এ দেখানো হয় ৫০ টি জেলা সদর হাসপাতালে সাইকিয়াট্রিস্ট পদ খালি।

সাইকিয়াট্রির এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বে। বাংলাদেশে আপনি সাইকিয়াট্রিতে করতে পারবেন এফসিপিএস, এমসিপিএস, এমডি। এমফিল/ডিপ্লোমা বন্ধ করা হয়েছে। দেশের বাইরে এম আর সি সাইক, পিএইচডিসহ আরও অনেক ডিগ্রি আছে। আছে কিংস কলেজ লন্ডন, স্কুল অব ট্রপিকাল মেডিসিন কিংবা জন হপকিংসের মত প্রতিষ্ঠানে স্কলারশিপের সুযোগ। বাংলাদেশের ২-৪ জন সেখানে অলরেডি অধ্যয়নরত। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে করতে পারবেন ইসিপিএস। এছাড়া মালদ্বীপ, মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রয়েছে অফুরন্ত চাহিদা।

যেহেতু সামনে রেসিডেন্সি এক্সাম, আজ আমরা শুধু রেসিডেন্সির আলাপ করি। বিএসএমএমইউয়ের অধীনে বর্তমানে সাইকিয়াট্রি ও চাইল্ড সাইকিয়াট্রিতে এমডি কোর্স চলমান। তবে শীঘ্রই এডিকশন সাইকিয়াট্রি নিয়ে আলাদা এমফিল/ডিপ্লোমা/মাস্টার্স চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিএসএমএমইউ, এনআইএমএইচ ও সিওমেকে সাইকিয়াট্রিতে রেসিডেন্সি কোর্স চালু আছে। চাইল্ড সাইকিয়াট্রি শুধু বঙ্গবন্ধুতে। সাইকিয়াট্রিতে সরকারি/বেসরকারি ৮ সিটের বিপরীতে পরীক্ষা দিতে পারবেন। চাইল্ডে ৩ সিটের বিপরীতে। যে বছর ভর্তি পরীক্ষায় কাট মার্ক জানা গিয়েছিল, সেবছর সাইকিয়াট্রিতে ১৩৮ নম্বর ছিল কাটমার্ক।

সাইকিতে কেন পড়বেন?

- বোথ হোম এন্ড এব্রডে হিউজ স্কোপ এন্ড ডিমান্ড ।

- এমার্জিং সাবজেক্ট।

- পাশের হার নিয়ার এবাউট ১০০% (ফেইজ এ এন্ড বি)।

- টিচার/ ফ্যাকাল্টি খুবই আন্তরিক ও আপডেটেড।

- ট্রেনিং পিরিয়ডে তেমন পেইন বা ঝক্কিঝামেলা নেই (ইমার্জেন্সি নেই, ইভনিং-নাইট নেই, রাশ নেই)।

- পড়াশোনার পাশাপাশি মাদক, সুইসাইড ইত্যাদি নিয়ে সোশ্যাল ওয়ার্ক, মিডিয়া এক্সারসাইজ, লেখালেখি করতে পারবেন।

- পেশেন্টগুলো ক্রনিক। দ্রুত চেম্বার জমানোর নিশ্চয়তা।

সাইকি নিয়ে কিছু স্টিগমা:

- লেইম্যানরা পাগলের ডাক্তার বলতে পারে।

- চিকিৎসক সমাজের কেউ কেউ ব্রাহ্মণ্যবাদী আচরণ করতে পারে।

- সাইকিয়াট্রিক টার্মসগুলো জটিল। এম বি বি এস কারিকুলামে এ তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়নি তাই কোর্সের শুরুতে একটু ধাক্কা লাগতে পারে। 

কিন্তু এই স্টিগমাগুলো কাটিয়ে ওঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র।


সংবাদটি শেয়ার করুন:


ডিপ্রেশন  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  সাইক্রিয়াট্রি






























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

প্রধান উপদেষ্টা: অধ্যাপক ডা. মো. তাহির, সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ঢাকা
বার্তা কক্ষ: ০১৮৬৭৮৪৪৪৫৩  ই-মেইল: [email protected]
মোবাইল: ০১৮৬৭৮৪৪৪৫১